পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আসামের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির খবরের পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সম্প্রতি সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের ৩১টি কারাগারে গত চার মাসে ২২৬ জন বন্দির দেহে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে বন্দিরা কারাগারের ভেতরে এইচআইভি সংক্রামিত হয়েছেন, রাজ্য সরকার তার বিশদ তদন্ত করবে।
আরও পড়ুন:
আসামের কারাগারে এইচআইভি পজিটিভ মামলার রিপোর্ট এবং আরও নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, "আমাক জানানো হয়েছে যে বন্দিদের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্তকরণ শুরু হয়েছে।
বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং আমি বিশ্বাস করি গৌহাটি হাইকোর্টও এই বিষয়ের ওপর নজর রাখছে। ঠিক কী কারণে এবং কী পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কারাগারের অভ্যন্তরে সংক্রামিত হলেন, আমরা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখব। একই সাথে আক্রান্ত বন্দি যাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা পান, তা সুনিশ্চিত করা হবে।"আরও পড়ুন:
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে রাজ্যের ৩১টি কারাগারে বন্দিদের স্ক্রিনিং করা হয়।
২২৬ জন বন্দির দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণই সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২০২ জন বন্দিকে ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি’-র আওতায় আনা হয়েছে। সুরক্ষাজনিত কারণে বহু বন্দিকে বাইরের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া কঠিন হওয়ায় এআরটি টিম সরাসরি কারাগারে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান করছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল সম্প্রতি জানান, আসামে বর্তমানে আনুমানিক ৩৩,০০০ জন সক্রিয় এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।