পুবের কলম, ইম্ফল: অসমের পর এবার মণিপুরেও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) হালনাগাদ করার দাবি তীব্র আকার ধারণ করল। জনশুমারি (সেন্সাস) শুরুর আগেই এনআরসি চালু করা এবং জাতিগত হিংসায় বাস্তুচ্যুত মানুষদের আগে পুনর্বাসন দেওয়ার দাবিতে মণিপুরের কাকচিং জেলায় আয়োজিত একটি বিশাল মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। বিক্ষোভকারীদের ইটের জবাবে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। রবিবার রাতে ওয়া বাগাই, হিয়াংলাং ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত গ্রামবাসী প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মশাল মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের মুখে মূল স্লোগান ছিল—'নো এনআরসি, নো সেন্সাস'।

সূত্রের খবর, কাকচিং জেলা সদরের দিকে এগিয়ে যাওয়া মিছিলটি কেইরাক বাঁধ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ফিরে যেতে বললে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ হঠাৎ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। খণ্ডযুদ্ধে কয়েকজন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হয়েছেন।

তবে পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ইম্ফল উপত্যকার মৈতৈ এবং আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলের কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হওয়া জাতিগত হিংসায় এ পর্যন্ত ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনও নিজ ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেননি। তাঁরা ত্রাণশিবিরে থাকা অবস্থায় সেন্সাস বা জনশুমারি পরিচালনা করা অযৌক্তিক। গত প্রায় তিন বছরে বেআইনি অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার জনমিতিক পরিবর্তনের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেন্সাসের আগে এনআরসি হালনাগাদ না করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না।