পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  হেগের আন্তর্জাতিক শালিসি আদালতের দেওয়া সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত রায় সরাসরি খারিজ করে দিল ভারত। সোমবার ওই আদালত রায় দেয় যে, পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া এই জলবণ্টন চুক্তি ভারতকে মেনে চলতে হবে। কিন্তু নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের উপর হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার ওই আদালতের নেই। নরেন্দ্র মোদী সরকার এই আদালতের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশ মন্ত্রক কড়া ভাষায় জানিয়েছে, অবৈধ ভাবে গঠিত এই সংস্থার কথার ভারতের কাছে কোনও মূল্য নেই।

পহেলগাঁও হামলা এবং তৎপরবর্তী ভারত-পাক যুদ্ধের পর সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নয়াদিল্লি। এরপরই পাকিস্তানের তরফে বিশ্বের প্রাচীনতম এই আন্তর্জাতিক শালিসি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়। সোমবার আদালত তাদের রায়ে জানায়, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ১৯৬০ সালের এই চুক্তি একতরফা ভাবে বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা ভারতের নেই। চুক্তি বাতিলের পিছনে কোনও যুক্তিযুক্ত কারণও নেই বলে জানায় আদালত। তাই উপমহাদেশের দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে বলে রায়ে জানানো হয়।

পাশাপাশি, পাকিস্তানের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বিশ্বব্যাঙ্কের এক প্রতিনিধি হিমালয় অঞ্চলে ভারতের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করবেন বলেও আদালত জানিয়েছে। তবে আদালতের এই নির্দেশকেও ভারত আমল দিচ্ছে না।

বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে সাফ জানিয়েছে, আদালতের এই রায়ের কোনও প্রভাব ভারত সরকারের পদক্ষেপের উপর পড়বে না। সিন্ধু জলচুক্তি আগের মতোই স্থগিত থাকবে। ভারতের এই স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তকে ভিয়েনা চুক্তির নিয়মভঙ্গ বলে দাবি করে আসছে ইসলামাবাদ। তবে গত মার্চ মাসে বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, চুক্তির পবিত্রতার কথা বলার আগে পাকিস্তানকে মানুষের জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। যে দেশ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু, তারা নিজেদের আচরণ না শোধরানো পর্যন্ত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনাই হবে না বলে ভারত আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।