এআইএমআইএম প্রধান ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, নিউ ইয়র্কে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। ভাগবত বলেছিলেন, যে হিন্দু বিশ্বাস করে ভারতে কোন মুসলমান থাকা উচিত নয়, সে আর হিন্দু থাকবে না।
ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন যে ভাগবতের বিবৃতিটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অবস্থানে কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না এবং তিনি দলটির কয়েকজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদের লেখা ও মতামতের উল্লেখ করেন।
ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক মহলের সামনে আরএসএস-এর একটি ভিন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রচেষ্টাই ছিল ভাগবতের মন্তব্য। তিনি বলেন, জনসভায় দেওয়া বক্তব্যকে সংগঠনটির ঐতিহাসিক আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না।
ওয়াইসির মতে, আরএসএস তার বিশিষ্ট মতাদর্শী ও লেখকদের মতামত থেকে নিজেদেরকে স্পষ্টভাবে দূরে সরিয়ে রাখেনি।
তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেবি হেডগেওয়ারের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গে হেডগেওয়ার দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। এই দাবি করার সময় ওয়াইসি আরএসএস কর্তৃক প্রকাশিত হেডগেওয়ারের একটি জীবনীর উদ্ধৃতি দেন।ওয়াইসি আরএসএস-এর অন্যতম প্রভাবশালী তাত্ত্বিক এমএস গোলওয়ালকারের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি গোলওয়ালকারের ‘ বাঞ্চ অফ থটস’ বই এবং এর ‘অভ্যন্তরীণ হুমকি’ শীর্ষক অধ্যায়টির উদ্ধৃতি দেন।
ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন যে, বইটিতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ভারতের অভ্যন্তরীণ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ধর্মীয় ঐক্য বিষয়ে আরএসএস-এর বর্তমান বক্তব্য মূল্যায়নের সময় এই ঐতিহাসিক অবস্থানগুলো বিবেচনা করা উচিত।
আরও পড়ুন:
গোলওয়ালকারের সংগঠনটিকে “এক পতাকা, এক নেতা ও এক আদর্শ” হিসেবে বর্ণনা করার প্রসঙ্গ টেনে ওয়াইসি গণতন্ত্রের প্রতি আরএসএস-এর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আরএসএস-এর আদর্শগত ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে এআইএমআইএম প্রধান হিন্দুত্ববাদী চিন্তাবিদ ভি ডি সাভারকরেরও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:
তিনি ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন এবং অভিযোগ করেন যে, সে সময় মুসলমানরা ব্যাপক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।
ওয়াইসি সেই সহিংসতার সময় প্রশাসন ও আরএসএস-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ওয়াইসি তার সমালোচনার সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি আইন (ইউসিসি), ধর্মান্তর-বিরোধী আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-সহ বিভিন্ন বিষয়কে যুক্ত করেছেন।আরও পড়ুন:
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে ভূমিকা রেখেছে এবং যুক্তি দিয়েছেন যে এগুলো আরএসএস-এর মতাদর্শের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।
ওয়াইসি ভাগবতকে সাভারকর, হেডগেওয়ার ও গোলওয়ালকরের লেখা থেকে উদ্ধৃতাংশ জনসমক্ষে পাঠ করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান, যাতে মানুষ নিজেরাই সংগঠনটির আদর্শগত অবস্থান মূল্যায়ন করতে পারে।
ভাগবত তাঁর নিউইয়র্কের ভাষণে বলেছিলেন যে, ভারত ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, আরএসএস বিশ্বাস করে না যে মুসলমানদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা উচিত।