পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই। এখনও পর্যন্ত মোট ৯৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। এর মধ্যেই নুয়ানকোট এলাকা থেকে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক খবর সামনে এসেছে। সেখানে বন্যার কবলে পড়া একটি বাড়ি থেকেই একসঙ্গে ২৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের অনুমান, নিহতরা প্রত্যেকেই একই পরিবারের সদস্য।গত ২৬ আগস্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ইতিমধ্যে ছ'দিন কেটে গিয়েছে। প্রতিদিন শয়ে শয়ে মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে এবং জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। জলের তোড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে একাধিক রাস্তা ও সেতু। তার উপর টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছতে গিয়ে উদ্ধারকারীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
ত্রিশুল এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছেন প্রায় ১০০ জন কর্মী। নেপালের মন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতর বড় পাইপ ঢুকিয়ে সেনাকর্মীরা তাঁদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে রাতে প্রবল বৃষ্টি ও নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় সেই কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট ৯৩৩ জন কর্মীর এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।
বন্যার স্রোতে ভেসে নেপাল থেকে ভারতেও মৃতদেহ এসে পৌঁছচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের কুশিনগরে গণ্ডক নদী থেকে ১৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে উদ্ধার হওয়া দেহগুলি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণে চরম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, পোখরার একটি হাসপাতালে একটি দেহকে তিনটি আলাদা পরিবার নিজেদের বলে দাবি করেছে। এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি থেকে ১১ জনের একটি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ নেপালে গিয়ে পৌঁছেছে।