পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০১২ সালের দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পর, সেই একই আতঙ্ক ফের ফিরে এল দেশের রাজধানীতে। গ্রেটার নয়ডার পরী চক থেকে উত্তর দিল্লির কাশ্মীরি গেট—প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে একটি চলন্ত প্রাইভেট স্লিপার বাসে ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে। এই ঘটনা দুই রাজ্যের সংযোগকারী ব্যস্ততম সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
 
সূত্রের খবর, গত ৪ আগস্ট রাতে নয়ডা সেক্টর ৬৩-এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরী চক থেকে ওই প্রাইভেট বাসে উঠেছিল মেয়েটি।

অভিযোগ, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর চলন্ত বাসে তাকে ধর্ষণ করে এবং পরে কাশ্মীরি গেটের কাছে রাস্তায় ফেলে চম্পট দেয়। ঘটনার ভয়াবহতা সামনে আসার পর, এই ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার বাস্তব নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা ঠিক কেমন, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ টিম পরী চক থেকে কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত পরিদর্শনের করে। 
 
পুলিশ সূত্রে খবর, যে স্থানে মেয়েটিকে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই কাশ্মীরি গেটের কাছে কোনো পুলিশ চেকপয়েন্ট বা ব্যারিকেড নজরে আসেনি। পুরো ৪৩ কিলোমিটারের দীর্ঘ যাত্রাপথে কেবল দুটি চেকপয়েন্ট নজরে এসেছে, যা রাতের নিরাপত্তা নিয়ে বড় সড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়।
দিল্লি পুলিশ বর্তমানে বাসের যাতায়াতের রুট পুনর্নির্মাণ করতে একই পথ ম্যাপিং করছে। পুরো রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বাসটি ঠিক কোন্ কোন্ পথ অতিক্রম করেছিল।
 
পুলিশ জানিয়েছে, কাশ্মীরি গেট থানায় এফআইআর দায়ের করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিমারপুরের একটি পার্কিং লট থেকে চালক কুলদীপ (৩৯) এবং কন্ডাক্টর সন্দীপ (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষা চালাচ্ছে। বাসের ভেতর থেকে নির্যাতিতা নাবালিকার চুলের গোছা উদ্ধার করা হয়েছে।