পুবের কলম, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ১৯১১ সালের নথিপত্রের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, মসজিদটি কালেক্টরেট ভবন তৈরির বহু আগে থেকেই ছিল। ‘এক্স’ বার্তায় ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, "ভারতে কি মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার আর প্রযোজ্য নয়?"
 
এআইএমআইএম প্রধান দাবি করেন, মসজিদ কমিটি ১৯১১ সালের পুরোনো নথি পেশ করেছিল যা প্রমাণ করে স্থানটি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটানা উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এটি ওয়াকফ আইনের অধীনে 'ওয়াকফ বাই ইউজার' হিসেবে স্পষ্ট সুরক্ষিত। সরকারি খাস জমির দাবির বিরুদ্ধে তিনি তামাদি আইন এবং 'অ্যাডভার্স পজেশন' নীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, "রাষ্ট্র দাবি করতে পারে না যে এই দখলদারিত্ব গতকাল শুরু হয়েছে। কালেক্টরেট ভবন তৈরি হওয়ার আগেই এই মসজিদ তৈরি হয়েছিল"। ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াইসি লেখেন, "কারও যদি মসজিদ দেখলে কষ্ট হয়, সেটা তাদের সমস্যা।
শুধুমাত্র আপনার কোনো একটা বাসনা পূরণ করতে আমাদের মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন না। আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা কারও দয়ার ওপর নির্ভর করে না"।
 
সাহারানপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৭ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মসজিদটিকে অবৈধ নির্মাণ ও সরকারি জমি জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করে ভাঙার নির্দেশ দেয় এবং প্রায় ৬.৪১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত সেই আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশ বহাল রাখে। আদালতের নির্দেশ মেনেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই কাঠামোটি অপসারণ করা হয়েছে।