উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় লাগোয়া জীবনতলা।শনিবার সকালে জীবনতলা বাজারে আইএসএফ ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় মোট ৯ জন আহত হয়েছেন বলে বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও দুই রাজনৈতিক দলেরই দাবি, আহতের সংখ্যা আরও বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জীবনতলা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে রাত পর্যন্ত কোনও পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ জীবনতলা বাজারে মিছিল বের করেছিল আইএসএফ। বাজারের কাছেই রয়েছে বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয়। আইএসএফের মিছিলটি বিজেপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছতেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ।অভিযোগ, মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একে অপরের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সংঘর্ষের চেহারা নেয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত জীবনতলা থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ দুই পক্ষের লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় নজরদারিও শুরু করা হয়।বারুইপুর জেলা পুলিশের তরফে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের জীবনতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার পর তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য তাঁদের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, দুই রাজনৈতিক দলের তরফেই আহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে এখনও পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।জীবনতলা থানার পুলিশের দাবি, দু’পক্ষের তরফে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, অভিযোগের ভিত্তিতে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শনিবারের ঘটনায় নতুন করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।