পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমান জেলায় এক অদ্ভুত ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নাম এবং জন্মের সাল এক হওয়ার পাশাপাশি দুই মহিলার আধার কার্ডের নম্বরও হুবহু এক! আর এই আধার-বিভ্রাটের জেরেই এক জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৭ হাজার টাকা তুলে নিলেন অন্য জন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খণ্ডঘোষ এবং রায়নার দুই সমনামী মহিলাকে নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে চরম ফাঁপড়ে পড়েছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও।


জানা গিয়েছে, খণ্ডঘোষের বাদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এক ঝর্না দাস এবং রায়নার পলাশনের দাসপাড়ায় থাকেন অপর এক ঝর্না দাস।

 বৃহস্পতিবার খণ্ডঘোষের ঝর্না তাঁর মোবাইলে টাকা তোলার মেসেজ পেয়ে চমকে যান। তিনি জানতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কে থাকা তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ২৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তিনি ব্যাঙ্কে গিয়ে অভিযোগ জানান। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে ওই অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন বন্ধ করে ঘটনার খোঁজখবর শুরু করেন।


ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র মারফত জানা যায়, রায়নার ঝর্না ওই টাকা তুলেছেন। জানা যায়, রায়নার ঝর্না দাসের দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, তা জানতে তিনি নিজের আধার কার্ড নিয়ে স্থানীয় একটি গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে যান। 

সেবাকেন্দ্রের কর্ণধার শেখ জহিরুল আধার নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে জানান যে, আধারের সঙ্গে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিবিটি লিঙ্ক থাকায় সেখানে টাকা জমা রয়েছে। সেই কথা শুনে রায়নার ঝর্না গত ১০, ১১ এবং ১২ জুলাই তিন দফায় মোট ২৭ হাজার টাকা তুলে নেন। কিন্তু টাকা তোলার সেই মেসেজ যায় খণ্ডঘোষের ঝর্নার মোবাইলে। ঘটনার সূত্র ধরে রহস্যের শিকড় খুঁজতে গিয়েই দুই মহিলার একই আধার নম্বরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।