পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেশের পাঁচ প্রধান জাতীয় দলের সংগৃহীত মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণকেও ছাপিয়ে গেছে গুজরাটের ছয়টি অখ্যাত রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস' (এডিআর)-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুক্রবার বিবিসি নিউজ হিন্দি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়, কমিশনের তালিকায় নিবন্ধিত অসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকা এই ছয়টি দল হলো—আম জনমত পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল, গরিব কল্যাণ পার্টি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি, সত্যবাদী রক্ষক পার্টি এবং স্বাধীনতা অভিব্যক্তি পার্টি।
আরও পড়ুন:
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগের অর্থবর্ষে (২০২৩-২৪) প্রাপ্ত রাজনৈতিক অনুদানের তথ্যে এক অভাবনীয় বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (আপ), বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), সিপিআই(এম) এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)—এই পাঁচ স্বীকৃত জাতীয় দল মিলে মোট অনুদান পেয়েছে ১,৪৮০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গুজরাটের ওই ছয়টি অখ্যাত দল সম্মিলিতভাবে অনুদান পেয়েছে ১,৭০০ কোটি টাকা। শুধুমাত্র 'আম জনমত পার্টি' একাই পেয়েছে ৬২০ কোটি টাকা। দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রাপ্ত মোট অনুদানের (২৮১ কোটি টাকা) এটি দ্বিগুণেরও বেশি।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের আগস্টে 'দৈনিক ভাস্কর'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে গুজরাটের ১০টি নামসর্বস্ব দল মোট ৪,৩০০ কোটি টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছে। এই সময়কালের মধ্যে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২২ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি নির্বাচনে ওই ১০টি দল সব মিলিয়ে মাত্র ৪৩ জন প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল, যাঁরা সম্মিলিতভাবে পান মাত্র ৫৪,০৬ ৯টি ভোট। এই ১০টি বেনামী দলের মধ্যে বিবিসি-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে আসা পাঁচটির নামও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। নির্বাচনে নামমাত্র প্রার্থী দেওয়া অখ্যাত দলগুলো কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার অনুদান পাচ্ছে এবং এই বিপুল অর্থ প্রকৃতপক্ষে কোথায় যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।