পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকায় মোট ৯.৭৮ কোটি ভোটারের মধ্যে ২.০৭ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রাহুল গান্ধি মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে "ভোট চুরি কমিশন" বলে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন যে যেকোনো মূল্যে বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
 
সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ এক বার্তায় রাহুল লেখেন, বিজেপির লক্ষ্য একটাই—যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে জেতা এবং ভারতের গণতন্ত্রকে শেষ করে দেওয়া। ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধি দাবি করেন, ভোটার তালিকার এই আকস্মিক রদবদল আসলে সুপরিকল্পিত "ভোট চুরি"।


 
কংগ্রেস নেতা উল্লেখ করেন, "মহারাষ্ট্রে ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের মাঝখানে হঠাৎ করেই ৩৯ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়েছিল। আমি তখনও বলেছিলাম, আজও বলছি—এটা ভোট চুরি ছিল। আবার পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ পুনরীক্ষণের সময় যেসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, আপিলের পর তার ৯১% নামই পুনর্বহাল করতে হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং ভোটের পরেই তা ফেরত আনা হয়।
"
 তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মহারাষ্ট্রে এখন ২.০৭ কোটি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—যা মোট ভোটারের প্রতি পাঁচজনে একজন। ২০২৪ লোকসভায় ভোটার ছিল ৯.২৯ কোটি, ২০২৪ বিধানসভায় ৯.৭ কোটি, আর ২০২৬-এর এসআইআর-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭.৭৮ কোটিতে... আসলে কোন তালিকাটি সঠিক ছিল?"
 
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, যেখানে বিজেপির সুবিধা হয়, সেখানে নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়; আর যেখানে সুবিধা হয় না, সেখানে ভোট বিভাজন করে চুরি করা হয়। খাড়গে তোপ দেগে বলেন,"সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অভিভাবক হওয়ার বদলে নির্বাচন কমিশন এখন 'বিজেপির চেয়ার বাঁচাও কমিশন' হিসেবে কাজ করছে। দেশ এখন এই ভোট চুরির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। চোর ধরা পড়ে গেছে এবং গণতন্ত্রকে বন্দি করার জন্য শাস্তি অবশ্যই মিলবে।"