পুবের কলম, চেন্নাই: গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা এবং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল তামিলনাড়ু সরকার। মে ২০২১ থেকে এপ্রিল ২০২৬—এই পাঁচ বছর সময়কালের মধ্যে জীবনজীবিকা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক দাবির ভিত্তিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কৃষক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়েছে। বিধানসভায় ১১০ নম্বর বিধির অধীনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। তিনি স্পষ্ট জানান যে, মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই এই আইনি প্রক্রিয়াগুলি গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুটি বহুল আলোচিত আন্দোলন সহ রাজ্যজুড়ে হওয়া একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বস্তি পেতে চলেছেন শত শত মানুষ। জানা যায়, তিরুভান্নামালাই জেলায় 'স্টেট ইন্ডাস্ট্রিজ প্রমোশন কর্পোরেশন অব তামিলনাড়ু'-এর প্রস্তাবিত শিল্প তালুকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা কৃষকদের সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। কাঞ্চীপুরম জেলার পরান্দুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের অধিবাসীরা কৃষি জমি অধিগ্রহণ, জলাশয় বিনষ্ট হওয়া ও ঐতিহ্যবাহী জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। সেই সময় বহু আন্দোলনকারীর ওপর কঠোর মামলা দায়ের করা হয়েছিল, এমনকি কিছু কৃষককে গুন্ডা আইনে আটক করা হয়, যা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।


 
বেতন বৃদ্ধি, পেনশন পুনর্প্রবর্তন, চাকরির স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবিতে গত পাঁচ বছরে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা গুটিয়ে নেওয়া হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় জানান, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজের দাবি ও ক্ষোভ প্রকাশ করা সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মৌলিক অধিকার, যার জন্য কাউকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে তা বিচার না করে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মামলা পৃথকভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট আদালতে আর্জি পেশ করে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দপ্তরগুলোকে। এর ফলে বছরের পর বছর পুলিশ ও আদালতে দৌড়ঝাঁপ করা শত শত সাধারণ মানুষ অহেতুক আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন।