পুবের কলম ওয়েবডেস্ক,ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা স্যাম পিত্রোদা মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। গরিব, দলিত ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা মানসিক নকশালবাদ বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মানুষের পরিচয় বা বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবিকতাকে স্থান দেওয়ার কথা বলেন পিত্রোদা। ভারতে সংখ্যালঘুরা বর্তমানে কেমন অনুভব করছেন, তা জানতে মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি ও বৌদ্ধদের সরাসরি জিজ্ঞাসা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, শুধু তাঁদের সম্মান করা হয় বলে দাবি করলেই হবে না। বাস্তবে তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, দেশে নকশালবাদ শেষ হয়ে গেলেও ‘দিমাগি নকশাল’ এখনও রয়েছে। সেই মন্তব্যের জবাবেই পিত্রোদা বলেন, দরিদ্র, দলিত ও সংখ্যালঘুদের হয়ে কথা বলা নকশালবাদ বা কমিউনিজম নয়।

এছাড়া ২০১৪ সালের আগে তৈরি প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে পিত্রোদা বলেন, গত ৭০ বছরে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। আইআইটি ও আইআইএম-এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে বহু মানুষ আজ সারা বিশ্বে কাজ করছেন। ২০১৪ সালের পর একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রতিষ্ঠান কতগুলি তৈরি হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দেশের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, শুধু অর্থনীতির বৃদ্ধির হার দেখলেই হবে না।

সেই বৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং তা সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে কি না, সেটিও বিচার করা জরুরি। রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করে পিত্রোদা বলেন, তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, দৃঢ়তা, সাহস এবং নিজের ভাবনার প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। কংগ্রেসের ‘আইডিয়া অব ইন্ডিয়া’ বা ভারতের ধারণাকে সামনে তুলে ধরতেও রাহুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি করেন তিনি।

কেন্দ্রে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ নিয়েও সরব হন পিত্রোদা। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, আয়কর দফতর এবং স্থানীয় পুলিশের মতো প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা দুর্বল হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ নিলে চাপ বা ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিতর্কের মান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন পিত্রোদা।