পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দিল্লিগামী চলন্ত প্রাইভেট বাসে ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ নাকি যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশ পুলিশ—কাকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন কংগ্রেস সাংসদ। মঙ্গলবার এক্সে রাহুল গান্ধি বলেন, ৪৭ কিলোমিটারের এক দীর্ঘ যাত্রাপথে বাসের ভেতরে এক কিশোরীকে নির্যাতন করা হলেও দিল্লি বা নয়ডা পুলিশের নজরদারিতে কিছু না আসা চরম উদ্বেগজনক।
আরও পড়ুন:
২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, নারীদের ওপর একের পর এক অপরাধ ঘটা সত্ত্বেও কেন নিয়মকানুন কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। রাহুল গান্ধি লেখেন, "ওই বাসটি নয়ডা-গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে, দিল্লির রিং রোড এবং সীমান্ত অতিক্রম করল, কিন্তু একটি চেকপয়েন্টেও তাকে থামানো হলো না। বাসটির জানলায় পর্দা টানা ছিল, যাতে ভেতরে কী ঘটছে কেউ দেখতে না পায়। দুষ্কৃতীদের মনে প্রশাসনের কোনো ভয়ই ছিল না।
এই পর্দা শুধু বাসের জানালায় ঝুলছিল না—এটা আসলে বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের টেনে দেওয়া পর্দা। অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ বা আদিত্যনাথের অধীনস্থ ইউপি পুলিশের কোনো জবাবদিহিতা থাকবে কি? কোনো সুযোগই নেই—অন্যান্য অপরাধের মতোই এই অপরাধের ওপরও পর্দা টেনে দেওয়া হবে।"আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর প্রদেশের মৈনপুরীর বাসিন্দা এবং একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী মায়ের বকুনি খেয়ে ঘর ছেড়েছিল।
নয়ডা সেক্টর ৬৩-এ থাকা এক আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে রওনা দেয়। গত ৪ আগস্ট রাতে ভারী বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৯টা নাগাদ ভুলবশত সে গ্রেটার নয়ডার পরী চকে নেমে পড়ে। নাবালিকা যখন গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য গাড়ির খোঁজ করছিল, তখন একটি প্রাইভেট স্লিপার বাস সেখানে এসে দাঁড়ায়। বাসের কন্ডাক্টর তাকে সেক্টর ৬৩-এ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাসে তুলে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি ছাড়ার পর চালক ও কন্ডাক্টর মিলে চলন্ত বাসেই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে। এরপর তাকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পুরনো দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।