পুবের কলম, চণ্ডীগড়: পঞ্জাবের কারাগারগুলোতে বন্দি থাকা কয়েদিদের ৪৪ শতাংশেরও বেশি মানুষ চরমভাবে মাদকের ওপর নির্ভরশীল। মঙ্গলবার পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের পেশ করা এক স্ট্যাটাস রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি রাজেশ গৌড়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজ্যের হলফনামা খতিয়ে দেখে জানান, পঞ্জাবের জেলগুলোতে মোট ৩৫,৪৪৯ জন বন্দির মধ্যে ১৫,৭৬৮ জনই মাদকাশক্ত।

পঞ্জাব সরকারের জমা দেওয়া জিলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অমৃতসরের ৪,৯১৮ জন বন্দির মধ্যে ২,১২৪ জন এবং বাথিন্ডার ১,৯৭৮ জন বন্দির মধ্যে ১,০৬৪ জনই মাদকাশক্ত। শুনানিকালে বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, আক্রান্ত বন্দিদের অধিকাংশই জীবনের সেরা সময়ে থাকা তরুণ বা যুবক।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, "এর চেয়ে আর গম্ভীর বিষয় কিছু হতে পারে না। এই কয়েদিদের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বের করে আনার জন্য সরকারের ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে? যদি চিকিৎসকদের দেওয়া নির্দিষ্ট ডোজ সময়মতো না দেওয়া হয় তবে বন্দিরা মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারেন, তবে তার জন্য উপযুক্ত কোনো দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই হবে।"

মানসা সেশনস ডিভিশনের প্রশাসনিক বিচারকের দেওয়া এক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে গত জুলাই মাসে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলাটি গ্রহণ করে। বিচারকের রিপোর্ট অনুযায়ী, মানসা জেলে থাকা ৭৬৭ জন বন্দির মধ্যে ৫৩০ জন (প্রায় ৬৯%) জেলের ভেতরেই প্রতিষ্ঠিত ‘আউট-পেশেন্ট ওপিওয়েড অ্যাসিস্টেড ট্রিটমেন্ট’ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন।

বিপুল সংখ্যক সংক্রামিত কয়েদিকে চিকিৎসার অংশ হিসেবে 'বুপ্রেনরফিন' ও 'নালক্সোন' সমন্বিত প্রতিষেধক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই মামলাটি প্রতি সপ্তাহে শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত নিয়োগপ্রাপ্ত ‘অ্যামিকাস কিউরি’ আইনজীবী তনু বেদীকে সরকারের হলফনামাটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী শুনানিতে সহায়তা করতে বলেছে। একই সাথে বেঞ্চ হরিয়ানা রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড় প্রশাসনকেও তাদের নিজস্ব জেলগুলোতে থাকা মাদকাশক্ত বন্দিদের বিস্তারিত তালিকা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। চণ্ডীগড় প্রশাসনের প্রতিনিধি আইনজীবী অভিনব সুদের মাধ্যমে শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর সহ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।