পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্‌স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে লোকসভার স্পিকারের পাঠানো নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিয়ে তাঁরা প্রত্যেকেই ইমেল এবং স্পিড পোস্টের মাধ্যমে স্পিকারের সচিবালয়ের কাছে আরও সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।
গত ২৬ অগস্ট স্পিকারের সচিবালয় থেকে দলবদলকারী ওই সাংসদদের নোটিস পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, ২০ জনই প্রায় একই বয়ানে চিঠি দিয়ে সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন।

কোচবিহারের জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খানের মতো সাংসদরা বাড়তি সময় চাওয়ার বিষয়টি স্বীকারও করে নিয়েছেন। খাতায়কলমে তৃণমূল সাংসদ হলেও তাঁরা বর্তমানে এনসিপিআই-এর হয়ে কাজ করছেন এবং এনডিএ-র বিভিন্ন বৈঠক-সহ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও গিয়েছেন।
এই দলবদলের কারণে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আগেই পিটিশন দাখিল করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্পিকারের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ না করায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
গত ২৫ অগস্ট শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সেই মামলার শুনানির ঠিক পরের দিনই স্পিকারের সচিবালয় ওই নোটিস জারি করে। আগামী সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, সাংসদদের নোটিসের জবাব এড়িয়ে সময় চাওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ওই সাংসদরা ভালো করেই জানেন যে তাঁরা অবৈধ কাজ করেছেন, তাই স্পিকারকে দেওয়ার মতো কোনও জবাব তাঁদের কাছে নেই। এই প্রসঙ্গেই নাম না করে উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণ করেন তিনি।