পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বর্তমান লোকসভা সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদির মধ্যের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি রুহুল্লাহ আগামী নভেম্বরে দল ও লোকসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে এবং একে 'দিল্লির চক্রান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছে। এনসি-র সিনিয়র নেতা তথা বানিহালের বিধায়ক সাজাদ শাহীন দাবি করেছেন, ন্যাশনাল কনফারেন্সকে ভেঙে টুকরো করতেই দিল্লির নির্দেশে এই বিদ্রোহের ছক কষা হয়েছে।

১৯৮৪ সালেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর এক মাস আগের তোলা দল ভাঙানোর অভিযোগের পরই সাজাদ শাহীনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এলো। উল্লেখ্য, ওমর আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন যে, জম্মু অঞ্চলের এনসি বিধায়কদের ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার বিনিময়ে দলে টানার চেষ্টা করছে বিজেপি। রুহুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে সাজাদ শাহীন বলেন, "যে দল তাকে গড়ে তুলেছিল, সেই দলের পিঠেই ছুরি মারার জন্য রুহুল্লাহকে প্রলোভন ও সবুজ স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। এনসি ছাড়া ওনার নিজস্ব রাজনৈতিক কোনো অস্তিত্ব নেই—ওনার রাজনৈতিক ওজন 'জিরো'।

আমার কাছ থেকে লিখে নিন, এনসি-র সমর্থন ছাড়া রুহুল্লাহ নির্বাচনে জিততেই পারবেন না, ওনার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।" তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, নভেম্বরের শেষ তারিখ পর্যন্ত কেন সময় নিচ্ছেন রুহুল্লাহ? যদি সাহস থাকে, তবে তিনি যেন এখনই ইস্তফা দেন।

শুক্রবারের এক ঘোষণায় রুহুল্লাহ স্পষ্ট জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের নীতি ও অবস্থানের প্রতি তিনি আর আস্থা রাখতে পারছেন না। রুহুল্লাহর অভিযোগ, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে এনসি ধারা ৩৭০ ও ৩৫এ পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকা সত্ত্বেও জেনেশুনে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি আদৌ পূরণ করার ইচ্ছা দলের ছিল কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিশেষ মর্যাদা ভুলের কেবল রাজ্য মর্যাদা পুনরুদ্ধারের মধ্যে সন্তুষ্ট থাকা বস্তুত বিজেপির অবস্থানকেই সমর্থন করার শামিল, যা ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের সাংবিধানিক পরিবর্তনকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেয়।