পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেড় মাসেরও বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। লাহেক আলির মা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গিয়েছে, বারুইপুরের এই নেতার মা বর্তমানে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা আদালতে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে লাহেক আলির আইনজীবীরা অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আদালতে সওয়াল করা হয় যে, মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং এই কঠিন পরিস্থিতিতে ছেলের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে লাহেক আলিকে সাময়িক জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপতি বেশ কিছু কঠোর শর্তও আরোপ করেছেন।
আরও পড়ুন:
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী জামিনে থাকাকালীন লাহেক আলি নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ তাকে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই থাকতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে বারুইপুর থানার পুলিশ তাকে ডাকলে হাজির হতে হবে এবং তদন্তে কোনোভাবেই সহযোগিতার অভাব করা যাবে না বলেও আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ফলে আপাতত সীমিত সময়ের জন্য জেলের বাইরে থাকার সুযোগ পেলেন এই সিপিএম নেতা। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকবে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আরও পড়ুন:
লাহেক আলির জামিনের খবর সামনে আসতেই সিপিএমের তরফে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পোস্টে তিনি লাল সেলাম লিখেছেন।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরের একটি বহুল আলোচিত মামলায় লাহেক আলি গ্রেফতার হয়েছিলেন। একটি নাবালিকাকে নির্যাতন এবং খুনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়।আরও পড়ুন:
অভিযোগ ওঠে যে, ওই গণপিটুনির ঘটনায় লাহেক আলি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি জেল হেফাজতেই ছিলেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর এবার অসুস্থ মাকে দেখার সুযোগ পেলেন তিনি।
তবে এই জামিন সম্পূর্ণ মুক্তি নয়, এটি শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী জামিন। আদালত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুবিধা দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলবে এবং পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে থানায় ডেকে পাঠাতে পারবে।আরও পড়ুন:
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে। একদিকে নাবালিকার মৃত্যু এবং তার পরের অশান্তি, অন্যদিকে গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ। সব মিলিয়ে ঘটনাটি শুরু থেকেই চর্চায় রয়েছে। এখন নজর থাকবে ১০ সেপ্টেম্বরের পর আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয় তার দিকে। একই সঙ্গে লাহেক আলির মায়ের শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর রয়েছে। অন্তর্বর্তী জামিনের এই সময়ে তিনি মায়ের পাশে থাকতে পারবেন বলেই আশা তার পরিবার ও দলের।