পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, একবার ফুল ফোটে, তারপরই শেষ হয়ে যায় জীবন। অপেক্ষা করতে হয় আরও ১২ বছর। প্রকৃতির এমন বিস্ময়কর জীবনচক্রের সাক্ষী হতে শুরু করেছে কেরলের মুন্নার। চোকরামুড়ি পাহাড়ের ঢালে জুলাই থেকেই ফুটতে শুরু করেছে বিরল নীলকুরিঞ্জি। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আরও বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় এই ফুলের সমারোহ দেখা যেতে পারে।

স্ট্রোবিলান্থেস কুনথিয়ানা নামের এই ফুল সাধারণত ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ মিটার উচ্চতার পাহাড়ি তৃণভূমিতে জন্মায়। ফুল ফোটার পর গাছটি মারা যায়। মাটিতে থেকে যাওয়া বীজ থেকে নতুন প্রজন্ম জন্ম নেয়, যা প্রায় ১২ বছর পরে আবার ফুল দেয়। চোকরামুড়ি-মাত্তুপেট্টি অঞ্চলের বর্তমান ফুলের পরবর্তী দেখা মিলতে পারে প্রায় ২০৩৮ সালে।
এখন চোকরামুড়িতেই ফুলের উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্ট।

পরে এডালিমেড়ু, সেভেনমালা, গুন্ডামালা ও মিসাপুলিমালার উঁচু এলাকাতেও ফুল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকের ভিড় সামলাতে ইদুক্কি প্রশাসন অনলাইন দর্শন-সময়ের ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত বাস চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে এই সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্বও পর্যটকদের। ফুল না ছেঁড়া, গাছ না মাড়ানো, নির্দিষ্ট পথেই হাঁটা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ মানুষের চোখে কয়েক মাসের সৌন্দর্য হলেও, এই ফুলের কাছে তা ১২ বছরের প্রতীক্ষার পর পাওয়া একমাত্র মুহূর্ত।