পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: টানা বৃষ্টির জেরে বাঁকুড়া জেলায় দু’টি পৃথক ঘটনায় মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সোনামুখী ও সিমলাপাল থানা এলাকায় ঘটনা দু'টি ঘটে। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় দেওয়াল চাপা পড়েই প্রাণ হারিয়েছেন ওই তিনজন।
আরও পড়ুন:
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখী থানার কুণ্ডপুষ্করিণী গ্রামে। মৃত বৃদ্ধার নাম বেলি রুইদাস (৭৬)।
তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে ওই মাটির বাড়িতেই থাকতেন। জানা গিয়েছে, বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার রাতে মাটির দেওয়ালটি নড়বড়ে হয়ে যায়। বিপদ বুঝে দম্পতি দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচলেও বৃদ্ধাকে বের করা সম্ভব হয়নি। চোখের নিমেষে দেওয়াল ধসে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেলেও অর্থাভাবে সেই বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়নি। বাধ্য হয়েই তাঁরা ওই পুরনো কাঁচা বাড়িতে থাকছিলেন। বৃদ্ধার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, সিমলাপালের কুশতোড়া গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক দম্পতির। মৃতেরা হলেন পালকু বাস্কে এবং সোমা বাস্কে। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাটির বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন তাঁরা।
বৃষ্টির জেরে দেওয়াল ভেঙে তাঁদের গায়ের ওপর পড়ে। বুধবার সকালে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে এলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। দম্পতিকে উদ্ধার করে সিমলাপাল ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।