পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলিট ট্রাইব্যুনালে (এনসিএলএটি) জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র অভিযোগ করেছেন, অনুমোদিত ২২,০০৬ কোটি টাকার পাওনার বিপরীতে ৬.৫ কোটি টাকা মেটানোর একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তাঁর চরিত্রহনন করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত অনুমোদনকারী আদেশ জারিই হয়নি। বুধবার এনসিএলএটি-তে সুভাষ চন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী সস্মিত পাত্র আদালতকে জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে একতরফা মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হচ্ছে, যা চন্দ্রের সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। আদালতে পাত্র বলেন, "আসল সত্য হলো, আজ পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ বলবৎ নেই।

অথচ গত ১৫ দিন ধরে এই দেশের বুকে ব্যক্তিগত জামিনদার ডঃ সুভাষ চন্দ্রকে এই বলে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। তিনি নাকি ২২,০০০ কোটি টাকার বিপরীতে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা ছুড়ে দিয়েছেন।"

ঋণদাতা ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুভাষ চন্দ্রের আইনজীবীর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আদালতের কার্যবিবরণীকে সংবাদমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার বা বিবৃতি দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এরপর এনসিএলএটি-এর বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে কোনো নির্দেশ জারি করছে না। আদালত জানায়, ঋণখেলাপি ও দেউলিয়া সংক্রান্ত মূল মামলাটি যেহেতু ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাই সুভাষ চন্দ্র চাইলে সেখানেই তাঁর অভিযোগ জানাতে পারেন। উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট এনসিএলটি-র এক সদস্য সুভাষ চন্দ্রের পেশ করা ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় সম্মতি জানান। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ক্যানারা ব্যাঙ্ক এবং এলআইসি হাউস ফিন্যান্সের মতো আবেদনকারী ঋণদাতারা এনসিএলএটি-তে আপিল আবেদন দায়ের করেন। এদিন সেই আবেদনের ওপরই শুনানি হয়।