নিজস্ব প্রতিবেদক: আইন পেশার ৫০ বছর পূর্তিতে দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন প্রথিতযশা আইনজীবী কপিল সিবল। তবে বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে না দিলেও নিরপেক্ষ বিচারের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নব মহাকরণে কলকাতা হাইকোর্টের বর্ধিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব সহ অন্যান্য বিচারপতিদের উপস্থিতিতেই তিনি বলেন, ‘বিচার কখনও এক পক্ষ হয় না। সর্বদা নিরপেক্ষ হয়।’ পাশাপাশি এদিন বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিজেপি ভক্ত সংবাদমাধ্যমের মিডিয়া ট্রায়ালকেও নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘সংবাদমাধ্যমে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হচ্ছে। এটা কাম্য নয়। সম্মানহানি করবেন না। আসল খবরটা দেখান। আমার বিরুদ্ধেও সত্যি খবর হলে দেখান, কিছু মনে করব না।
’আরও পড়ুন:
কলকাতা হাইকোর্টে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নব মহাকরণের ব্লক বি-র দ্বিতল থেকে দশম তল কলকাতা হাইকোর্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক, মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী সহ হাইকোর্টের বিচারপতি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য সরকার যে সবসময় সাধারণ মানুষকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার পক্ষে তা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ছিল। তা বন্ধ করার কথা উঠেছিল। আমি বন্ধ করতে দিইনি। ১৮টি মানবাধিকার আদালতও চালু করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে জায়গার অভাব দেখা দিয়েছিল। সেই সমস্যা দূর করতে আমরা এদিন এই ভবন আদালতের জন্য তুলে দিলাম।’
আরও পড়ুন:
এর পরেই বিচার ব্যবস্থার উপরে সাধারণ মানুষের আস্থার কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ। মানুষ যখন সব জায়গা থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলেন, কোথাও আর আশ্রয় খুঁজে পান না তখনই বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হন।
আমি মনে করি বিচার এক পক্ষ নয়, নিরপেক্ষ হওয়া উচিত।’আরও পড়ুন:
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, মূলত শিক্ষক নিয়োগ সহ একাধিক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বেশ কয়েক জন বিচারপতির নির্দেশ নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, এদিন পরোক্ষে সে কথাই বোঝাতে চেয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
আরও পড়ুন:
তিনি নিজেও যে আইন পেশার সঙ্গে জড়িত তা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও আইনজীবী। আমার কাছেও কার্ড আছে। আমিও বার কাউন্সিলের সদস্য। একাধিকবার শামলা পড়ে বিভিন্ন আদালতে মামলা লড়েছি। চাইলে আবারও কোর্টে মামলা লড়তে আসতে পারি।’
আরও পড়ুন:
এর পরেই প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্টে যে মামলার পাহাড় জমেছে তা দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘প্রচুর মামলা জমে রয়েছে। ৩-৪ বছর ধরে পড়ে মামলা পড়ে আছে। কলকাতা হাইকোর্টে বর্তমানে কয়েকজন মহিলা বিচারপতি রয়েছেন।
আরও বেশি সংখ্যক মহিলা বিচারপতিও আনুন।’আরও পড়ুন:
পার্থ ও অনুব্রতর গ্রেফতারির পরেই দেখা গিয়েছে বিজেপি ভক্ত সংবাদমাধ্যম দুজনের চরিত্রহননে একের পর এক মনগড়া খবর পরিবেশন করে চলেছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক-অধ্যাপক আর বামপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে আলোচনাসভা বসিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি কলুষিত করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে যাতে সংবাদমাধ্যম মিডিয়া ট্রায়াল না চালাতে পারে এবং বিচারপতিরা সেই ষড়যন্ত্রের অংশীদার মিডিয়া ট্রায়ালে প্রভাবিত না হন, সেই আর্জিও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কার্যত ক্ষুব্ধ কণ্ঠেই উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘নো মিডিয়া ট্রায়াল নাউ! গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যম হল মূল স্তম্ভ।
এর মধ্যে একটির বিশ্বস্ততা নষ্ট হলে বাকিদেরও বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সত্যি খবর দেখান। আমার বিরুদ্ধে দেখালেও কিছু মনে করব না।’
আরও পড়ুন:
যদিও নীতি পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া তথাকথিত গদি মিডিয়ার কর্ণধাররা মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে কতটা সাড়া দেবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।