উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : ২০২৩ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওঠা একাধিক অভিযোগের ঘটনায় এবার ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসকে তলব করল রাজ্য সিআইডি। তাঁকে ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে বিরোধীদের উপর হামলা, বোমাবাজি, নির্বাচনে বাধা এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে পঞ্চায়েতের পদে বসানোর মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল বিধায়কের বিরুদ্ধে। যদিও সেই সময় সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করে ছিলেন পরেশরাম দাস।প্রায় তিন বছর পর ওই ঘটনাগুলির তদন্তে নতুন করে তৎপরহয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

এর মধ্যেই বিধায়কের বিরুদ্ধে এক মহিলার আনা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে।ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যানিং থানায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছিল।এবার সেই তদন্তের সূত্রেই সিআইডি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নেমেছে বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগকারী মহিলার দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে পঞ্চায়েত সদস্যের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পরেশ রাম দাস। এর বিনিময়ে তাঁর কাছে চার লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ওই মহিলা দাবি করেন,টাকা দেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করার পর তাঁকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগও তোলেন তিনি।অভিযোগ, ঘটনার পর ওই মহিলা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সে সময় কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। দীর্ঘ সময় পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর ফের পুলিশের কাছে যান তিনি। ক্যানিংয়ের এসডিপিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরকরেন ওই মহিলা।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ক্যানিং থানায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।অন্যদিকে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া, তাঁদের উপর হামলা এবং বোমাবাজির মতো অভিযোগ ও উঠেছিল। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের সদস্য ও প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের পদে বসানোর অভিযোগ ও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও সেই সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক।এখন পুরনো অভিযোগের পাশাপাশি মহিলার করা গুরুতর অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়েছে। প্রায় তিন বছর পর সিআইডির তলব ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভবানী ভবনে বিধায়ক কে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তাঁর বক্তব্য কী, তা নিয়েই এখন নজর বিভিন্ন মহলে।