পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ১১ দিন পর উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর সারি। রবিবার নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৮৫টি শিশু-সহ মোট ১৩৪২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ দেহই পচন ধরে ফুলেফেঁপে উঠেছে, যার ফলে শনাক্তকরণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০০টি দেহের একাধিক দেহাংশ বিচ্ছিন্ন।

মাত্র ৯৮ জনের দেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি প্রায় এক হাজার অশনাক্ত দেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।

বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের জীবন ত্রাণ শিবিরে অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সেখানে সবথেকে বেশি সংকটে রয়েছে ছোট শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা। অভিযোগ, ভিড়ে ঠাসা শিবিরগুলিতে শিশুদের জন্য আলাদা কোনও ‘বেবিফুড’-এর ব্যবস্থা নেই।

ফলে বাধ্য হয়ে কোলের একরত্তিদের মুখে বড়দের ডাল-ভাত তুলে দিচ্ছেন মায়েরা। পাশাপাশি, সেখানে স্তন্যপান করানোর মতো স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা জায়গাও নেই। রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধড়িং জেলায় প্রায় সাড়ে চার হাজার অন্তঃসত্ত্বা মহিলা রয়েছেন। রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের হাসপাতালে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রসূতি ও সদ্যোজাতদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

তবে এই ঘন অন্ধকারের মধ্যেও কিছুটা আশার আলো জুগিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি উদ্ধারকাজ।

গত দু’দিনে ধ্বংসস্তূপ ও সুড়ঙ্গের নিচ থেকে চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জোড়া সুড়ঙ্গ থেকে নয় ও দশ দিন পর যথাক্রমে দুই নেপালি ও এক চিনা শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নুয়াকোটে একটি চারতলা বাড়ির নিচ থেকে এক প্রৌঢ়াকেও জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপদ এখনও কাটেনি। নেপালের পাহাড়ে থাকা আরও অন্তত ১৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদ ফেটে আগামীতে আরও বড় হড়পা বান আসার আশঙ্কা রয়েছে। সতর্কতা হিসেবে ইতিমধ্যে চারটি হ্রদের জল কমানোর কাজ শুরু করেছে নেপাল প্রশাসন।