পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রবিবার দুপুরে দিল্লির চাণক্যপুরীর মোতি বাগ এলাকায় একটি ছ’তলা মেসবাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। দমকলের অন্তত আটটি ইঞ্জিন এবং জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বেশ কয়েক জনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মাত্র চার থেকে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা বহুতলটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এর জেরে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িও গুঁড়িয়ে গিয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এই জরাজীর্ণ ভবনটিতে চরম বেআইনি ভাবে অতিরিক্ত তলাগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। পুরসভার অনুমতি ছিল মাত্র দোতলা পর্যন্ত, কিন্তু মালিক সেখানে ছ’তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন। বাড়িটিতে ছাত্রদের ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে রাখা হত। ঘরের বদলে শয্যা বা খাট পিছু ভাড়া নেওয়া হত। একতলায় খাট পিছু ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় প্রতি শয্যার ভাড়া ছিল যথাক্রমে ১৬ হাজার ও ১৪ হাজার টাকা। বাড়িটির দোতলা ও তিনতলায় কেউ থাকতেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটির দেওয়ালে ফাটল দেখা যাচ্ছিল। তা সত্ত্বেও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোনোর কোনও আপৎকালীন দরজার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। কয়েক মাস আগে বাড়িটি তড়িঘড়ি সংস্কার করে ভাড়া দেওয়া শুরু হয় এবং বেসমেন্টেও মেরামতির কাজ চলছিল। বছর কুড়ি আগে গুরুগ্রামে চলে যাওয়া ওই বাড়ির মালিক হরিরাম বনসলের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও হত্যার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। এই দুর্ঘটনার পরেই কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। দিল্লি পুরসভা ওই এলাকায় চারতলার চেয়ে উঁচু সমস্ত বেআইনি বাড়ি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।