পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, ২০১৩ সালে চারতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর বদলে যায় হরিশ রানার জীবন। চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই শিক্ষার্থী এরপর ১৩ বছর ধরে ছিলেন স্থায়ী অচেতন অবস্থায়। ছেলে বেঁচে থাকুক—এই আশায় দিন-রাত তাঁর পরিচর্যা করেছেন বাবা অশোক ও মা নির্মলা।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসার নল, ওষুধ, শ্বাসনালির পরিচর্যা—সবই ধীরে ধীরে শিখে নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বছরের পর বছর হরিশ কথা বলতে, খেতে, পান করতে বা নিজে নড়াচড়া করতে পারতেন না।
আরও পড়ুন:
শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। চলতি বছরের ১১ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জীবনধারণকারী চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ১১ দিন ধরে খাবার ও পানি কমানোর পর মৃত্যু হয় হরিশের।
আরও পড়ুন:
পাঁচ মাস পর গাজিয়াবাদের সেই বাড়িতে এখন নেই চিকিৎসার বিছানা, হুইলচেয়ার কিংবা অসংখ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম।
হরিশের পরিবার তাঁর অঙ্গদান করেছে। সম্প্রতি তাঁরা জানতে পারেন, তাঁর চোখ অন্য একজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেই মানুষটির সঙ্গে একবার দেখা করতে চান নির্মিলা। বাবা অশোকের কাছেও এটি সান্ত্বনার—ছেলেকে দেখা না গেলেও তাঁর চোখ এখনও পৃথিবী দেখছে।
আরও পড়ুন:
হরিশের মৃত্যুর পর অশোক নতুন জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন। রাজনগর এক্সটেনশনে একটি ছোট খাবারের দোকান চালাচ্ছেন তিনি। দোকানে রাখা হরিশের ছবি তাঁকে ছেলের কথা মনে করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন:
১৩ বছরের পরিচর্যার পর জীবন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শোক কাটেনি। অশোক মনে করেন, হরিশের মামলা ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য আইনি পথ সহজ করতে পারে। আর নির্মিলার কাছে ছেলে নেই, কিন্তু তাঁর চোখের মাধ্যমে হরিশ যেন এখনও পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত।