পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি উজ্জ্বল সাদা ল্যাবের ভেতরে গ্লাস পার্টিশনের আড়ালে মৃদু শব্দে চলছে প্রজ্ঞা (PRAGYA)। এটি ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি নিউক্লিয়ার ফিউশন তোকামাক রিয়্যাক্টর এবং এটি বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। এই যন্ত্রটি এমন এক প্রযুক্তির দিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুরো পদ্ধতিকে বদলে দিতে পারে। বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ প্রানোস-এর জন্য এটি বছরের পর বছর গবেষণা এবং সংগ্রামের এক চূড়ান্ত ফসল।

প্রতিষ্ঠাতা শৌর্য কৌশল এবং রোশন জর্জ এবং তাদের ১২ সদস্যের কম্পিউটার বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও পদার্থবিদদের দল জওহরলাল নেহেরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ (JNCASR)-এর ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে অত্যন্ত ব্যস্ততার সাথে কাজ করছেন।

তাদের তাৎক্ষণিক সময়সীমা হলো ৩ সেপ্টেম্বর, যখন প্রজ্ঞা বিনিয়োগকারী এবং পরিচিতদের একটি ছোট বৃত্তের সামনে প্রদর্শন করা হবে। মাসের শেষের দিকে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারতের প্রথম নিউক্লিয়ার ফিউশন স্টার্টআপগুলোর মধ্যে অন্যতম, প্রানোস অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালে যখন দ্য প্রিন্ট প্রথম তাদের প্রোফাইল তৈরি করেছিল, তখন কৌশল এবং জর্জ, যাদের বয়স যথাক্রমে ৩১ এবং ৩০ বছর, তারা তখনও একটি নতুন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎসের পথ খোঁজার চেষ্টা করছিলেন। তখন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা অনুসরণ করার মতো কোনো পথ ছিল না।

সর্বোপরি, ভারতে এর আগে এমন কাজ কখনও হয়নি। তাদের সম্বল ছিল বড় স্বপ্ন এবং ভারতের নিউক্লিয়ার ফিউশন সক্ষমতা গড়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। তাদের অফিস ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং এই উদ্যোগটি সরকারি সিড গ্রান্ট, প্রতিষ্ঠাতাদের নিজস্ব সঞ্চয় এবং পরিবার ও বন্ধুদের দেওয়া অর্থের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল।

আজকের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যতে এক নতুন আশা জাগিয়েছে। প্রজ্ঞা যন্ত্রটির মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণায় ভারত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই স্টার্টআপটি তাদের লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।