ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নাম বদলে নিজের নামে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হরমুজ প্রণালি যেহেতু এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, তাহলে সেটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যায় কি না।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে এখনও তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে এবং প্রণালিটি খোলা রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং কার্যত বন্ধ।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর পালটা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও। যুদ্ধের জেরে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়।

ফলে প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালনে ৪.১২ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের নিচে ছিল।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা’ বলে দাবি করেছিলেন। এবার সেটির নাম নিজের নামে করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এমন বার্তা দিতেই বারবার এ ধরনের মন্তব্য করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।