পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ঋষি অরবিন্দের নামে রাখার প্রস্তাব দিলেন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি আলোচনাসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বাঙালি মেধার বিকাশের লক্ষ্যে ঋষি অরবিন্দ এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। তাই অনেক রাষ্ট্রবাদী মানুষ চান, প্রতিষ্ঠানের নাম তাঁর নামেই হোক। এই দাবিতে প্রয়োজনে রাজ্যপাল বা কেন্দ্রের কাছে গণস্বাক্ষর-সহ দাবিপত্র পেশ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা জায়গায় শহর, রাস্তা, খেলার মাঠ বা স্টেশনের নাম বদলের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। খোদ কলকাতাতেও কলকাতা বন্দরের নাম পরিবর্তন করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে রাখা হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনের নাম বদলেরও দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই আবহে দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বদলের প্রস্তাব ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে বিধায়কের এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা অধ্যাপকরা। এমিরেটস অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়ে চর্চা না হওয়াই ভালো। তাঁর মতে, অহেতুক বিতর্ক বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন বিঘ্নিত হবে। পাশাপাশি গত ১৯ অগস্ট রাতে ক্যাম্পাসে গোলমালের সময় শর্বরীর দেওয়া হুঁশিয়ারির কথাও প্রচ্ছন্নভাবে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। অন্যদিকে, তুলনামূলক সাহিত্যের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা ঈপ্সিতা চন্দ এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ যুক্তিহীন এবং ‘আদিখ্যেতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি জানান, যাদবপুর তার প্রতিষ্ঠাতার অবদান কখনও ভোলেনি। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব নামেই পরিচিত এবং এর সঙ্গে অনেক ব্যবহারিক দিক জড়িয়ে রয়েছে। তাই নাম পরিবর্তনের কোনও যৌক্তিকতা নেই।
দীর্ঘ কুড়ি বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করা তথাগত রায়ও নাম বদলের ঘোর বিরোধী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঋষি অরবিন্দের অবদান অনস্বীকার্য, তাই তাঁর নামে আলাদা কোনও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হতেই পারে। কিন্তু যাদবপুরের নিজস্বতা ও ঐতিহ্য এর নামের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তাই প্রতিষ্ঠানের নাম অপরিবর্তিত থাকাই বাঞ্ছনীয়।