পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারে 'সেবাশ্রয়' স্বাস্থ্য শিবির সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পুলিশকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিয়ে ডাকতে হবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিদেশ থেকে অভিষেকের ফেরার কথা রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাঁর ফেরার বিষয়টি জানাতে হবে এবং তারপরেই পুলিশ চাইলে তাঁকে তলব করতে পারবে।

এদিন শুনানিপর্বে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার এফআইআর দায়ের হওয়া নিয়ে পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে আদালত। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক নিজে চিকিৎসক নন বা সরাসরি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাহলে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কী প্রয়োজন? চিকিৎসার গাফিলতি হয়ে থাকলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যেমন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন বা ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে আগে কোনও অভিযোগ জানানো হয়েছিল কি না, সেই নথিও দেখতে চায় আদালত। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাগাতার মামলার ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারপতি জানান, এমন চলতে থাকলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মামলার মতো এক্ষেত্রেও আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন কোনও এফআইআর না করার নির্দেশ দিতে তিনি বাধ্য হবেন।

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের উদ্যোগে হওয়া সেবাশ্রয় শিবিরে নিয়ম ভেঙে ও বিনা অনুমতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জুলাই মাসে এফআইআর দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি।

পরে মালতী বিশ্বাস নামে এক রোগীর পরিবারও এফআইআর করে। রাজ্যের দাবি, ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইন অমান্য করে ওই শিবিরে এক্স-রে ও আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, অভিযোগকারী বিজেপি নেতা এর আগে দু'বার অভিষেকের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়ে পরাজিত হওয়ায় তাঁর দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে আদালত এদিন সংশয় প্রকাশ করেছে। যদিও অভিযোগকারীর আইনজীবীর দাবি, ভোটে হেরে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁর মক্কেলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে আদালত নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।