আবুল খায়ের: সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আনেন। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভাঙচুরের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদের অভিযোগের তীর রাজ্যের শাসক দলের দিকে। যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি এই ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ভাঙচুরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এ দিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আজ ভোরে স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ আসে যে, ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বাড়িতে ঢুকে কিছু মানুষ ভাংচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছে। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।
ঘটনাস্থল থেকেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যেসব জিনিস ভাঙচুর করা হয় তা সিজ করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ধৃতরা হল অবিনাশ কুমার শাও(৪০), সুখদেব গুপ্ত(২৭), সুরজ শাও(২৫), ভম্বল মন্ডল ওরফে মঙ্গল(২২), শঙ্কর রাও(২৮), রোহিত পোরেল(৩০)। ধৃতরা সকলেই হাওড়ার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, এদের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্রাইম রেকর্ড সম্পর্কে পুলিশের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয় নি। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'বিজেপির সুশাসন। ডাবল ইঞ্জিন কায়দায়। ভাঙচুর, হিংসা, অরাজকতা। গত এক মাসে আমার (আমতলা এবং ক্যামাক স্ট্রিট) দুটি অফিসেই ভাঙচুর ও লুঠপাট চালানো হয়েছে। এরপরই পুলিশ এবং বিজেপিকে নিশানা করে তিনি লিখেছেন, পুলিশ এবং বিজেপির গুন্ডাদের মধ্যে আইন বা বিচারব্যবস্থা, কোনও কিছুরই ভয় আছে বলে মনে হয় না। যদি এই ঘটনা বিচারব্যবস্থার বিবেককে না নাড়িয়ে দেয়, তাহলে আর কী দেবে?'
আরও পড়ুন:
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে এনে (যার সত্যতা পুবের কলম যাচাই করেনি) তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, আজ ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের উপর এক লজ্জাজনক এবং নগ্ন আক্রমণ।
ভোর প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিজেপির গুন্ডারা কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়, তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, গোটা অফিস তছনছ করা হয় এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট করে দেওয়া হয়। আর কলকাতা পুলিশ তখন কোথায় ছিল? আমাদের কর্মী এবং আইনজীবীরা বারবার ফোন এবং ইমেল করার পরেও প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুলিশের কোনও সাড়া পাওয়া যায়নিআরও পড়ুন:
এরপর তাঁর দাবি, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। কারা এই হামলার পরিকল্পনা করেছে, কারা সংগঠিত করেছে এবং কার নির্দেশে এই সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। একই সঙ্গে, বারবার খবর দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কেন সময়মতো ব্যবস্থা নিল না, তারও জবাবদিহি করতে হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আরও লিখেছেন, ভোর সাড়ে চারটেয় অস্ত্র হাতে একদল লোক যদি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মীদের উপর হামলা চালাতে পারে, ফোন কেড়ে নিতে পারে, অফিস ভাঙচুর করতে পারে, আর সেই সময় পুলিশ যদি নির্বিকার থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বলে আর কী অবশিষ্ট আছে? অনেক হয়েছে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুন।