মোল্লা জসিমউদ্দিন: শর্তসাপেক্ষে কর্মসূচি পালনে অনুমতি পেল জমিয়ত উলেমা হিন্দ।দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে ধর্না ও অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি পেল এই সংগঠন । আসন্ন ৬ সেপ্টেম্বর মহানগরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে এই কর্মসূচি পালন করতে পারবে সংগঠনটি। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে জমায়েতের সংখ্যা এবং সময়সীমায় একাধিক কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন ও রাজ্যের উচ্চ আদালত।
নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত, মাত্র চার ঘণ্টার জন্য এই অবস্থান-বিক্ষোভ করা যাবে। জমায়েতের ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালতের পক্ষ থেকে আয়োজকদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই কর্মসূচিতে সর্বাধিক ৪০০ জন অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া নজরদারি চালাবে পুলিশ প্রশাসন। একইসঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম নির্দিষ্ট করে কলকাতা পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে।এদিনের এই আইনি লড়াইয়ে জমিয়তের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টে তিনি বলেন, -'গত ২০ অগস্ট প্রথম পুলিশের কাছে কর্মসূচির অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গত ২৪ অগস্ট পুনরায় আবেদন করা হয় যে, আগামী ৬, ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধরে মেট্রো চ্যানেলের পাশে পাঁচ হাজার মানুষকে নিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধর্না অবস্থান করা হবে। এরপর গত ৩১ অগস্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ফের লিখিতভাবে অবগত করা হয়।'তবে রাজ্য সরকারের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান, -'টানা তিন দিন ধরে শহরের বুকে এই ধরনের কর্মসূচি চললে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। বিশেষ করে এসপ্ল্যানেডমুখী প্রধান রাস্তাগুলিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে, যা জনজীবনকে ব্যাহত করবে। এর বিকল্প হিসেবে মেট্রো চ্যানেলের পরিবর্তে রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সীমিত সংখ্যায় জমায়েত করার প্রস্তাব দেয় রাজ্য।'আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের ওই নির্দিষ্ট তিন দিনে বড় আকারে ধর্না অবস্থানের অনুমতি চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল জমিয়ত নেতৃত্ব। কিন্তু ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের আশঙ্কায় সেই আবেদন খারিজ করে দেয় পুলিশ। প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সংগঠনটির নেতৃত্ব। আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, -'পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই এই কর্মসূচি করতে বদ্ধপরিকর আয়োজকরা'। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ ও উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাবের ভিত্তিতেই সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে শর্তসাপেক্ষে এই সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট