উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার  ৫৭ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল বারুইপুর থানার পুলিশ।এনকাউন্টারে মৃত প্রভাষ মণ্ডল সহ মোট চার জনকে অভিযুক্ত করে প্রায় ৭০০ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।ঐ নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে পকসো আইনের একাধিক ধারা এবং খুনের ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য, সাক্ষীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তবে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের এনকাউন্টারে প্রভাষ মণ্ডলের মৃত্যু হয়। চার্জশিটে তাকেও অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।তবে তদন্ত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।ফরেন্সিক, ব্যালিস্টিক এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট এখনও তদন্তকারীদের হাতে এসে পৌঁছয়নি।সেই রিপোর্টগুলি পাওয়ার পর নতুন কোনও তথ্য বা প্রমাণ সামনে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। নাবালিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের তরফেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। মৃত ছাত্রীর বাবাকে রাজ্য সরকারের তরফে কারা দফতরে চাকরি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিক সাহায্যও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মৃত ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, মেয়েকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
মানসিকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরই কারা দফতরের কাজে যোগ দেবেন তিনি।প্রসঙ্গত,ঐ নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।পরিবারের অভিযোগ ও বক্তব্য শোনার পাশাপাশি তদন্ত নিয়ে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।চার্জশিট পেশের পর এখন বাকি ফরেন্সিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টের দিকে নজর তদন্তকারীদের।ওই রিপোর্ট গুলি হাতে এলে মামলার তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।