পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। বিপুল বকেয়া অর্থের মাঝেই এবার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল ভারতের আদানি গ্রুপ। চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম বিদ্যুৎ আসায় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে কার্যত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে এবং অবিলম্বে তা বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে সম্প্রতি আদানি গ্রুপকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বুধবার সেই চিঠির জবাবে আদানি গ্রুপ তাদের বর্তমান সমস্যার কথা স্পষ্ট করেছে।

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রেলপথে মাত্রাতিরিক্ত যানজট এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় নানা বিধিনিষেধ আরোপের কারণে তাদের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা পৌঁছতে পারছে না। কয়লার এই ঘাটতির কারণেই ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে সন্ধ্যায় চাহিদার চূড়ান্ত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক রাখা যায়, তার জন্য আপৎকালীন পদক্ষেপ হিসেবে দিনের বেলায় সরবরাহ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খুব দ্রুত কয়লা পরিবহণ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আদানি গ্রুপের তরফে ঢাকা-কে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের এই বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে। বিপর্যয়ের জেরে নেপাল থেকেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসা বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই জোড়া ধাক্কায় বাধ্য হয়ে চিন থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা। ভারত থেকে যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানিতে গড়ে প্রায় ১৪ টাকা খরচ হয়, সেখানে চিন থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বাংলাদেশের খরচ পড়বে ইউনিট প্রতি ২৫ টাকা। একদিকে বিপুল বকেয়া মেটানো এবং অন্যদিকে চড়া দামে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা সব মিলিয়ে প্রবল চাপে রয়েছে প্রতিবেশী দেশের বর্তমান প্রশাসন।