পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বমি ও পেট খারাপের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। মৃতের নাম শাহ আলম মল্লিক (৩৬)। তাঁর বাড়ি মাচাতোড়া এলাকার তেঁতুলিয়া গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না নিয়ে দিনের পর দিন মেঝেতে ফেলেই চিকিৎসা চলছিল। রবিবার রাতে ওই যুবকের মৃত্যুর পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।


মৃতের বাবা রুকুব উদ্দিন মল্লিক জানিয়েছেন, দু'দিন আগে ছেলেকে ওই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে নিয়ম মেনে ভর্তি করা হয়নি। মেঝেতে শুইয়েই স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। পরিবারের গুরুতর অভিযোগ, হাসপাতালে থাকার সময়ে রোগীর প্রয়োজনীয় কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোনও হাসপাতালে রেফার করেননি চিকিৎসকরা।
কেন এমন চরম অবহেলা করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে রবিবার রাতভর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ পরিজনেরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন রোগীকে ভর্তি না নিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখা হল বা কেনই বা অন্যত্র রেফার করা হল না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি। বাঁকুড়ার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সরেনকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৃতের শোকস্তব্ধ পরিবার।