পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এ বছরের দুর্গাপুজোয় ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা করেন। তবে আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এই সরকারি অনুদান না নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন। পূর্বতন সরকারের অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অনেকেই এই টাকার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
পুজো কমিটিগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পাশাপাশি দমকলের ছাড়পত্রের জন্য কোনও টাকা নেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।আরও পড়ুন:
পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া নিয়মবিধিও বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, অষ্টমীর দিন রাজ্যে সমস্ত মদের দোকান ও পানশালা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পুজোর দিনগুলিতে কোথাও ডিজে বাজানো যাবে না এবং রাস্তা আটকে কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না।
প্রতিমা বা মণ্ডপ নির্মাণের ক্ষেত্রে যাতে কারও সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না।আরও পড়ুন:
আগামী ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করতে হবে। বিসর্জনের ঘাটে ক্রেনের ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া পুজো কার্নিভাল এবার আর হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরিবর্তে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে রাজ্যের পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। সেখানে আমন্ত্রিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ড্রোন ও আতশবাজির প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখান থেকেই উৎসবের সূচনা হবে। মহালয়ার পর রাজ্যের আরও ছ'টি শহরে অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া বয়স্ক ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ঠাকুর দেখার বিশেষ ব্যবস্থা এবং রাজ্য সরকারের তরফে শারদ সম্মান প্রদানের ধারাও অব্যাহত থাকবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।