পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তিন বছরের লড়াই, ১১টি অনশন এবং দুটি বিশালাকার মহাসমাবেশ—এই কয়েকটি পরিসংখ্যানেই লুকিয়ে রয়েছে মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিলের রাজনৈতিক যাত্রা। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বারবার তোলপাড় সৃষ্টি করা পাতিল আবারও রাজ্য সরকারকে কোনঠাসা করে ফেলেছেন। অনশন, কুনবি শংসাপত্র প্রদান এবং জাতিগত মূল্যায়নের দাবিতে তাঁর সাম্প্রতিক ১১তম অনশন আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
 
জালনা জেলার অন্তরওয়ালি সারোটি গ্রামে গত ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই অনশনে জল ও খাবার গ্রহণের পাশাপাশি সমস্ত ধরনের চিকিৎসাসেবাও প্রত্যাখ্যান করেছেন পাতিল। এর ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা মহারাষ্ট্র সরকারের ওপর এক চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

আন্দোলনকারী নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি মারাঠা সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারি আদেশ বা 'গভর্নমেন্ট রেজোলিউশন' জারি না করা হয়, তবে তিনি পুরো মুম্বাই শহরকে অচল করে দেবেন। 
 
একদিকে যখন পাতিলের বিষয়ে প্রশাসন বেশ সতর্ক পা ফেলছে, তখন অন্যদিকে ওবিসি নেতা মঙ্গেশ সসানে-কে পুলিশ দ্রুত আটক করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গেশও অন্তরওয়ালি সারোটি গ্রামেই অনশন করছিলেন। এই ঘটনার ফলে প্রশাসনে মারাঠা এবং ওবিসি আন্দোলনের প্রতি দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠছে। একদিকে পাতিলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ইতস্তত ভাব, অন্যদিকে অন্যান্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে পুলিশি বলপ্রয়োগ—দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুরো মারাঠা সমাজ এখন এই আন্দোলনকে আরও সংগঠিত রূপ দিতে সচেষ্ট হয়েছে।