পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র বেসরকারিকরণ কিংবা এর গুরুত্ব কমে যাওয়া সম্পর্কিত সমস্ত জল্পনা খারিজ করল সংস্থাটি। রবিবার 'এক্স'-এ এক বিবৃতিতে ইসরো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সংস্থাকে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে না এবং এর জাতীয় ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব কোনোভাবেই হ্রাস পাবে না। মহাকাশ খাতের নতুন সংস্কারের ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্থাটি জানায়, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে ইসরো ভবিষ্যতের নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়ন ও জটিল গবেষণায় অনেক বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ শিল্পক্ষেত্রগুলি প্রস্তুত প্রযুক্তি উৎপাদনে সহায়তা করবে।
 
গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসরোর নয়টি স্বীকৃত কর্মী সংগঠন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছিল। ২১ আগস্ট ইন-স্পেস -এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভের পরেই এই বিভ্রান্তি কাটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

রবিবার ইন-স্পেস প্রধান পবন গোয়েঙ্কাও বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ২০২০ সালের মহাকাশ খাতের সংস্কার মূলত দেশের সামগ্রিক মহাকাশ ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের জন্য। ইসরোই ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির মূল ভিত্তি থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৫০টি রকেট উৎক্ষেপণের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা একা ইসরোর পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এতে শিল্পখাত ও ইসরোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
 
ইসরো জানিয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ, রকেট তৈরি বা রুটিন উৎপাদনের কাজ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্র ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে দিলে ইসরো তার বৈজ্ঞানিক সম্পদ ও মানবশক্তিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী এবং ঐতিহাসিক মিশনগুলোতে নিয়োজিত করতে পারবে। ইসরোর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, কৌশলগত মর্যাদা, জাতীয় নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের কর্মসংস্থানের বিষয়গুলিকে পূর্ণ গুরুত্ব দিয়েই মহাকাশ খাতের এই সমন্বিত রূপরেখা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে।