পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আরাবল্লী পর্বতমালা সুরক্ষা ও তার ভৌগোলিক সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটিকে তীব্র তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট। রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেখে মনে হচ্ছে কমিটি তাঁর অবসরের জন্য অপেক্ষা করছে। ৬ মাসের অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত আগামী ৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশের কড়া নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২০২৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আর্জি জানায়।
কমিটির দীর্ঘায়িত আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, "কমিটির আবেদনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে তারা আমার অবসরের জন্য অপেক্ষা করছে।" আদালত মেয়াদের আবেদন নাকচ করে কমিটিকে দিনরাত এক করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। আগামী ৩০ নভেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। কমিটিকে রাজস্থান ও গুজরাটের উপজাতি সম্প্রদায়সহ সমস্ত প্রভাবিত অংশীদারদের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ সহজ করতে ও আইনি প্রক্রিয়া সচল রাখতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দেওয়ার অনুমতিও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
আরাবল্লী পর্বতমালার সংজ্ঞা এবং ১০০ মিটারের নিচের পাহাড়গুলোতে খনি খননের অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানান, এই প্রক্রিয়াটি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মামলা নয়; মূল উদ্দেশ্য হলো ঐতিহাসিক আরাবল্লী পর্বতমালাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা। আরাবল্লীর বৈজ্ঞানিক, ভূতাত্ত্বিক ও আইনি দিক পুনর্বিবেচনার জন্য একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির এই প্রতিবেদনটিই আগামী দিনে আরাবল্লী অঞ্চলের পরিবেশগত ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষা নীতি নির্ধারণ করবে।