পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শারদোৎসবের ঠিক আগেই শহরের বুকে বড়সড় অভিযানে নামল কলকাতা পুরসভা। নাগরিক সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ করে কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধ করার সুপারিশ করল পুরসভার বিশেষ পরিদর্শক কমিটি। পাশাপাশি, খাদ্যসুরক্ষা বিধি অমান্য করার অভিযোগে শহরের ৪০টি নামী রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত মাসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপরেই পুরসভার লাইসেন্স ও বিল্ডিং বিভাগ, দমকল এবং সিইএসসি-কে নিয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়।
এই দল শহরের প্রায় ৩,৭০০টি গেস্ট হাউসের মধ্যে ৯৬০টিতে পরিদর্শন করে। বিল্ডিংয়ের অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বাতাস চলাচলের পথ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ খুঁটিয়ে দেখার পর মাত্র ৪১টি গেস্ট হাউস পুরসভার পরীক্ষায় পাশ করেছে।আরও পড়ুন:
বাকি ৯১৯টি গেস্ট হাউস নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সেগুলি বন্ধ করার জন্য পুর কমিশনারের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, মূলত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গুরুতর গলদ এবং বৈধ লাইসেন্স না থাকার কারণেই এই কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে পুরসভা। নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ সহ একাধিক হোটেলকে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে, যার জবাব শনিবারের মধ্যে তলব করা হয়েছে।
পুরসভা জানিয়েছে, ত্রুটি সংশোধন করে ফের পরিদর্শনে পাশ করলে তবেই ওই গেস্ট হাউসগুলি পুনরায় খোলার ছাড়পত্র পাবে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নেও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। গত এক সপ্তাহ ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের রেস্তরাঁ, শপিং মলের ফুড কোর্ট, বেকারি এবং মিষ্টির দোকানে ধারাবাহিক তল্লাশি চালান আধিকারিকেরা। মোট ৫৯২টি খাদ্যবিপণিতে অভিযান চালানোর পর প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ৪০টি দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে পুরসভা। পুর প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া এই তালিকায় আরসালান, করিম’স, ডন জিওভানি'স, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ এবং শিমলা ফুড-এর মতো একাধিক প্রথম সারির রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানের নাম রয়েছে। উৎসবের মরশুমে শহরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই জোড়া অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।