পুবের কলম, রিয়াদ: সাবেক এক ইসরায়েলি সেনাকে নিয়ে তৈরি নতুন বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের বয়কট ও ক্ষোভের মুখে পড়েছে 'অ্যাডিডাস'। চাপের মুখে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আঞ্চলিক সংস্থা 'অ্যাডিডাস অ্যারাবিয়া' লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মূল অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো দুঃখপ্রকাশ না করে কেবল আঞ্চলিক অ্যাকাউন্টে ক্ষমা চাওয়ায় এই পদক্ষেপকে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘দায়সারা’ বলে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার কর্মী ও বিশিষ্টরা। মরক্কো-স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক লেয়লা হামেদ জানান, বিষয়টি কেবল অডিডাস আরাবিয়ার ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা ছিল, তাই এর দায়ভার মূল ‘অডিডাস’ ব্র্যান্ডকেই নিতে হবে।


 
বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, সাবেক ইসরায়েলি সেনা শালিভ বিটন অ্যাডিডাসের শোরুম থেকে একটি জুতো ট্রায়াল দিচ্ছেন এবং কৃত্রিম পা নিয়ে বাইরে দৌড়াচ্ছেন। ২০২১ সালে ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষের সময় আহত হয়ে বিটন একটি পা হারিয়েছিলেন। এই বিজ্ঞাপনী প্রচারকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকার রক্ষা সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। বিতর্কের মুখে 'অ্যাডিডাস অ্যারাবিয়া' সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, "আমরা স্বীকার করছি যে আমাদের একটি সাম্প্রতিক স্থানীয় কার্যক্রমকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কাউকে আঘাত করা বা কারও অনুভূতিতে আঘাত হানা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
এই ঘটনার দ্বারা যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।"
 
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় যেখানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অঙ্গ হারিয়েছেন, সেখানে একজন ইসরায়েলি সেনাকেই প্রচারের মুখ বানানো চরম সংবেদনহীনতার পরিচয়। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখিকা ও আন্দোলনকারী সুসান আবুলহাওয়া অডিডাসের এই ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে 'ভুয়ো ও অর্থহীন' বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবুলহাওয়া বলেন, "গত বছর মডেল বেলা হাদিদকে ফিলিস্তিনি পরিচয় থাকার কারণে অডিডাসের প্রচারণা থেকে বাদ দেওয়ার পরই ওদের মতাদর্শ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গ্লোবাল অ্যাথলেটিক পরিধানের ক্ষেত্রে মানুষের কাছে অডিডাসের চেয়ে অনেক ভালো বিকল্প রয়েছে।" জর্ডানীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা আলা হামদান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান অডিডাস অ্যাকাউন্টের অনুসারী প্রায় ৩ কোটি, সেখানে মাত্র ১৫ লাখ অনুসারী থাকা আঞ্চলিক অ্যাকাউন্টে ক্ষমা চেয়ে মূল প্রতিষ্ঠানটি তাদের আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে মুখ রক্ষা করতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের ক্ষোভকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে।