পুবের কলম, নয়াদিল্লি: লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার দীর্ঘ ২৫ দিন কেটে গেলেও সংসদ কেন আনুষ্ঠানিকভাবে সত্রাবসান করা হচ্ছে না, তা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করল কংগ্রেস। হাত শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সোমবার অভিযোগ করেছেন, সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন বিল) পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে এখনও মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেই কারণেই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে কৃত্রিমভাবে 'ভেন্টিলেটরে' বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
'এক্স'-এ জয়রাম রমেশ লেখেন, ১৩ আগস্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হয়ে যাওয়ার পর সোমবার ঠিক ২৫ দিন পূর্ণ হলো।
অথচ আজ পর্যন্ত সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের সত্রাবসান ঘটানো হয়নি। সচরাচর অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণার ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সত্রাবসান ঘটান। অতীত নজির স্মরণ করিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানান, এর আগে ২০১৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনে মুলতবির পর সত্রাবসানের মাঝে ২৮ দিনের দীর্ঘ বিরতি দেখা গিয়েছিল। সে সময়ে ললিত মোদী বিতর্কে অধিবেশন কার্যত অচল থাকলেও তৎকালীন মোদী সরকার রাজ্যসভায় জিএসটি বিল গায়ের জোরে পাস করানোর আশায় অধিবেশন জিইয়ে রেখেছিল। কিন্তু রাজ্যসভায় সরকারের প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছিল সরকার এবং বেশ কিছুকাল পর বিলটি পাস হয়েছিল।আরও পড়ুন:
২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জয়রাম রমেশ বলেন, "২০২৬ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে জোর করে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। কারণ লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পাস করানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনও তাঁর 'অতি-কলঙ্কিত' দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে ইতিউতি ছুটোছুটি করছেন। হুমকি ও ভয় দেখানোর রাজনীতি যে এবার চরমসীমায় পৌঁছে গেছে, তা মেনে নিতে তাঁর আর কতদিন লাগবে?"