ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাংকারে মার্কিন হামলার দাবির পর জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দুই দিনের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দু’বার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পরই ইরানের তেলের ট্যাংকারে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সেন্টকমের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওমান উপসাগরে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং খারগ দ্বীপের কাছে এম/টি দরিয়া—এই পাঁচটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার আগে ট্যাংকারগুলোর চালকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছে মার্কিন পক্ষ।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেখানে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩-সহ দুটি নৌযান এবং আটটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।আরও পড়ুন:
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা ধ্বংস করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে। হামলায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জর্ডান।
আরও পড়ুন:
বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলাকে জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাল্টা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন পিছু হটবে না। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে ইরান আরও তেলের ট্যাংকার হারাতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুন:
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হামলার খবরের মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।