পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কারে আমেরিকার হামলার পর এবার বড়সড় পাল্টা পদক্ষেপ করল তেহরান। হরমুজ প্রণালীতে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন সাবমেরিন বাজেয়াপ্ত করার দাবি করেছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইতিমধ্যেই আইআরজিসি-র মুখপত্র 'সেফা নিউজ'-এর পক্ষ থেকে 'ডাইভ-এলডি' নামের ওই মার্কিন জলযানটির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে ছ’মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের সমীকরণ নতুন দিকে ঘুরতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আইআরজিসি-র দাবি, আটক করা জলযানটি আমেরিকার একটি অত্যন্ত আধুনিক ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন, যা মূলত বড় জাহাজের সহায়ক সাবমার্সিবল হিসেবে কাজ করে। শুধু জলভাগেই নয়, আকাশপথেও কড়া প্রতিরোধের দাবি করেছে খামেনেইয়ের দেশ। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকেও গুলি করে নামিয়েছে বলে আইআরজিসি-র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ইরানের এই দাবির প্রেক্ষিতে পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করেছে মার্কিন সেনাও।

আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, জলসীমায় নজরদারি চালানোর সময় তাদের একটি ডুবো ড্রোন যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়েছিল। তবে ইরান যে ড্রোনটি বাজেয়াপ্ত করার কথা বলছে, সেটি একই ড্রোন কি না, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করেনি আমেরিকা। পাশাপাশি মার্কিন সেনার দাবি, ওই সাবমার্সিবলটিতে কোনও ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য বা রেডার সরঞ্জাম মজুত ছিল না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ ও একাধিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরেও ইরানকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করতে পারেনি ওয়াশিংটন। ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকার শর্তে হওয়া শান্তি আলোচনাও। হরমুজ প্রণালীতে প্রাণহানি এড়াতে আমেরিকা যে স্বয়ংক্রিয় ডুবো ড্রোন ব্যবহার করছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই জল্পনাকেই প্রমাণ করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।