মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিমন্ত্রী রামদাস অঠওয়ালে। বুধবার ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের অন্য ধর্মের উৎসবে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা দাবিটিকে অসাংবিধানিক বলে সরব হওয়ার পাশাপাশি মহারাষ্ট্র সরকারের একাংশের সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী নীতেশ রানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবিকে সমর্থন করলেও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীসের স্ত্রী অমৃতা ফডনবীসের বক্তব্য, উৎসব সকলের এবং মুসলিমরা তাতে অংশ নিলে আপত্তির কারণ নেই।আরও পড়ুন:
রায়পুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ভারত সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং সংবিধান সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তাঁর কথায়, “মুসলিমদের গরবা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া উচিত নয়—এমন কথা বলা ঠিক নয়। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়েরই একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করা উচিত।
”আরও পড়ুন:
অঠওয়ালে আরও বলেন, ভারতের বৈচিত্র্যময় সমাজে একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। অজমের শরিফে বহু হিন্দুর যাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, কোনও ধর্মের মানুষকে অন্য ধর্মের উৎসব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
আরও পড়ুন:
আগামী ১১ অক্টোবর থেকে নবরাত্রি শুরু হওয়ার কথা। তার আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজকদের গাইডলাইন পাঠিয়ে অংশগ্রহণকারীদের কপালে তিলক থাকা এবং প্রবেশের আগে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মতো ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।