পুবের কলম প্রতিবেদক, বহরমপুর: ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুর সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সন্দেহে বেআইনিভাবে চিহ্নিতকরণ, হেনস্থা এবং আটকে রাখার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। চিঠিতে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য কোনো ভারতীয় নাগরিককে নিজের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হতে পারে না। কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি বাংলা ভাষাকে ভারতের জন্য হুমকি বলে মনে করে, তবে পার্লামেন্টে প্রস্তাব এনে সংবিধানের অষ্টম তফসিল থেকে বাংলা ভাষাকে বাদ দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তুলে ধরেন বলেন, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা ও কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলোতে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে দরিদ্র শ্রমিক, গৃহপরিচারিকা এবং মহিলাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
আটক হওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের কাছেই ভোটার কার্ড এবং অন্যান্য বৈধ সরকারি পরিচয়পত্র রয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনো সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁদের হেফাজতে নিয়ে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা করা হচ্ছে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে— যা তাঁদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।আরও পড়ুন:
অধীরের কথায়, "বাংলা ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক কথিত ভাষা, দেশের ৯.৭২ কোটিরও বেশি মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন এবং সংবিধানের অষ্টম তফসিলে এটি স্বীকৃত সরকারি ভাষা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচিত অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা এবং ভাষার ভিত্তিতে এই ধরণের বেআইনি চিহ্নিতকরণ বন্ধে কঠোর প্রোটোকল জারি করা।" প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একাধিক রাজ্যে বাংলার থেকে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ সন্দেহে আটক করার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।