পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাগুলোতে প্রায়শই বিপুল পরিমাণ অপ্রাসঙ্গিক ও অনাবশ্যক তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে বিচারপ্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত ও জটিল করে তোলার প্রবণতা দেখা যায় বলে পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার ১৯৯৩ সালের একটি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় অসমের এক প্রাক্তন সরকারি কর্মীকে বেকসুর খালাস দেওয়ার সময় বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি বিনোদ কে চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে।

প্রসঙ্গত, মামলাটি শুরু হয়েছিল অসমের পশু চিকিৎসা বিভাগের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। সেখানে দাবি করা হয়, ওষুধ সরবরাহ না করেই একটি ভুয়া সংস্থার নামে ৫,৯৭,২০০ টাকার ভুয়া বিল পাস করিয়ে সরকারি তহবিলের ক্ষতি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।

বিচার বিভাগীয় আদালত ৩ জনকে খালাস দিয়ে ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তীতে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আপিল করা হলে হিসাবরক্ষক খালাস পান। কিন্তু স্টোর ইন-চার্জ (আপিলকারী) এবং স্টোরকিপারের সাজা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর একাধিক ধারা বহাল রাখা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিলকারী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এদিন শীর্ষ আদালত জানায়, "কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের বা অন্য কারো জন্য অসৎ উপায়ে, পদমর্যাদার অপব্যবহার করে বা জনস্বার্থের পরিপন্থীভাবে কোনো মূল্যবান জিনিস বা আর্থিক সুবিধা লাভ করেছেন— এই শর্ত পূরণ না হলে এই ধারায় সাজা প্রদান করা যায় না।

বর্তমান মামলায় হাইকোর্ট নিজেই ধরে নিয়েছে যে অভিযুক্তের কোনো আর্থিক সুবিধার প্রমাণ নেই, ফলে পিসি অ্যাক্টে এই সাজা আইনের দৃষ্টিতে টিকতে পারে না।"

সুপ্রিম কোর্ট উষ্মা প্রকাশ করে সাফ জানায়, "আমরা দেখছি না যে বিভাগ থেকে টাকা তোলার পর সেই অর্থ কীভাবে বা কার কাছে গেল, তার কোনো তদন্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপ্রাসঙ্গিক ও অহেতুক বিশাল প্রমাণের পাহাড় দাঁড় করানো। যা আদালতের সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।" এদিন সুপ্রিম কোর্ট গুয়াহাটি হাইকোর্টের দেওয়া সাজা বাতিল করে এবং অভিযুক্ত প্রাক্তন সরকারি কর্মচারীকে অবিলম্বে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি ও খালাসের নির্দেশ দেয়।