পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: 'কাকরোচ জনতা পার্টি'-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করায় গ্রেটার নয়ডার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে তীব্র ভর্ৎসনা করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সিজেপি আন্দোলনের জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর খারিজ করা এবং ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের ওপর সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই নোটিশ জারি করা হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
 
শুনানি চলাকালীন ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, "ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এই নোটিশ জারি করতে পারেন? আমাদের আদেশ একদম স্পষ্ট ছিল যে সারা দেশের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

একজন ম্যাজিস্ট্রেটের এত বড় সাহস হয় কীভাবে?"
 
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ-এর অধীনে প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিজেপি বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্ভূত সমস্ত মামলা একযোগে খারিজ করে দিয়েছিল। ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সিজেপি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নিবন্ধিত সমস্ত এফআইআর পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই মামলাগুলোর আর কোনো তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া চালানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আন্দোলন সম্পর্কিত কারণে দেশের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন পদক্ষেপ বা হয়রানি করা যাবে না বলে স্পষ্ট আদেশ দেওয়া হয়।
 
আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত ৪ সেপ্টেম্বর গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অক্ষত ত্রিপাঠীকে নোটিশ পাঠায় গ্রেটার নয়ডার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। নোটিশে অভিযোগ তোলা হয় যে, অক্ষত সরকারবিরোধী তথ্য ছড়াচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরে সিজেপি বিক্ষোভে যোগ দিতে প্ররোচিত করছেন। আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে "ভারতের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ধরণের বিপজ্জনক পরীক্ষা" বলে অভিহিত করেন এবং আদালতকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানান। প্রধান বিচারপতিও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন।