পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মিয়ানমারের ভারত-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ৭ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক চার্জশিট থেকে কঠোর সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন 'ইউএপিএ' বাদ দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপের পর জাতীয় রাজনীতিতে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করেছে মোদি সরকার, অথচ দেশে বহু মানুষ তথাকথিত মিথ্যা অভিযোগে বছরের পর বছর ধরে কারাবন্দী রয়েছেন। 

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বিমান হামলার ছক কষার অভিযোগে গত ১৩ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মার্কিন নাগরিক ভ্যান ডাইককে গ্রেফতার করা হয়।

পাশাপাশি দিল্লি ও লখনউ বিমানবন্দর থেকে ৬ জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এনআইএ চার্জশিটে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আপাতত 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫'-এর ২১ ও ২৩ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত জারি রয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রমাণ মিললে অতিরিক্ত চার্জশিটে ইউএপিএ ধারা পুনরায় যোগ করা হতে পারে।

এনআইএ-র এই পদক্ষেপে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেন, "বিদেশি রাষ্ট্র মোদি সরকারকে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করতে পারে। স্ট্যান স্বামী যদি মার্কিন নাগরিক হতেন, তবে হয়তো আজও তিনি বেঁচে থাকতেন।" কেন্দ্রকে 'বিদেশে অনুগত, দেশে অহংকারী' বলে তোপ দাগেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তোলেন, এনআইএ কি সঠিক তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাকি ওয়াশিংটনের চাপে সরকার নির্দেশ দিয়েছে? এর বিনিময়ে ভারত কী সুবিধা পাচ্ছে? অন্যদিকে আপ নেতা মনীস সিসোদিয়া বলেন, হয় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগটি শুরু থেকেই ভুয়া ছিল, না হয় মোদি সরকার ফের মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করেছে।