পুবের কলম, লখনউ: সরকারি স্কুলের ভগ্নদশা ও বেহাল পরিকাঠামোর চিত্র সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্য প্রশাসন শিক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করার বদলে নিজের ‘আহত অহংকার’ থেকে ওই সাংবাদিককে হেনস্থা করতে চেয়েছে। এই পদক্ষেপকে পরোক্ষভাবে সমস্যা সমাধান না করে বার্তাবাহককে হত্যা করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি আব্দুল মইন এবং বিচারপতি প্রমোদ কুমার শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত ছিল। 'শিক্ষা অধিকার আইন, ২০০৯' অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের আইনি দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, লখনউয়ের সাংবাদিক অমিত যাদব গত ২০ আগস্ট গোসাইগঞ্জ এলাকার 'পূর্ব মাধ্যমিক বিদ্যালয়'-এ সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যান। তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্কুলের শৌচাগারের চরম নোংরা পরিবেশ, পানীয় জলের অভাব এবং মৌলিক সুবিধার অনুপস্থিতির একটি করুণ চিত্র সামনে আসে। প্রতিবেদনের ইতিবাচক উত্তর দেওয়ার বদলে গত ২৪ আগস্ট গোসাইগঞ্জ থানায় অমিত যাদবের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে প্রশাসন।
এদিন ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, সাংবাদিককে শাস্তি দেওয়ার বদলে যে অভাব-অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, তা দ্রুত সংশোধন করা উচিত ছিল রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের। আদালত উত্তরপ্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান সচিবকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উক্ত স্কুলের বর্তমান অবস্থা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে একটি ব্যক্তিগত হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই স্থগিতাদেশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংবাদিক অমিত যাদব বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই রায়কে মিথ্যার ওপর সত্যের জয় বলে বর্ণনা করেন।